💠 শশাঙ্ক:---
১.বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা।First independent ruler of bengal.
২.৬০৬ খ্রিষ্টাব্দে ইনি গৌড়ের সিংহাসনে বসেন।
৩.সিংহাসনে আরোহণ করে তিনি 'বঙ্গাব্দ' চালু করেন।
৪.রাজধানী--কর্ণসুবর্ণ(মুর্শিদাবাদ জেলায়)।
🔺কর্ণসুবর্ণের লিপিতাত্ত্বিক প্রমাণ মেলে কামরূপের শাসক ভাস্করবর্মণ-এর নিধনপুর দানপত্র থেকে। এ দানপত্রটি কর্ণসুবর্ণের বিজয় ছাউনি (জয়-সরদ-অনবর্থ-স্কন্ধবারাত কর্ণসুবর্ণ-বাসকাত) থেকে প্রদান করা হয়েছিল। এতে জানা যায় যে, স্বল্প সময়ের জন্য গৌড়ের রাজা শশাঙ্কের রাজধানী কর্ণসুবর্ণ কামরূপের শাসক ভাস্করবর্মণের হাতে চলে গিয়েছিল।বৌদ্ধ মঠ ছাড়াও এখানে পঞ্চাশটি দেব মন্দিরও ছিল।
৫.ইনি ছিলেন শৈব ধর্মাবলম্বী।
৬.কথিত আছে,ইনি নাকি বোধিবৃক্ষ ধ্বংস করেছিলেন।
৭.কনৌজের হর্ষবর্ধনের সাথে শশাঙ্কের বিবাদ বাধে।কিন্তু তাঁর জীবিত অবস্থায় হর্ষবর্ধন বাংলা দখল করতে পারেন নি।
৮.প্রজাদের জলকষ্ট দূর করার জন্য শরশঙ্ক নামে একটি দীঘি খনন করেন।
৯.উপাধি-- শ্রীমহাসামন্ত,নরেন্দ্রাদিত্য।
১০.হর্ষের সভাকবি বাণভট্টের হর্ষচরিতে,শশাঙ্ককে 'গৌড়াধম' ও 'গৌড়ভুজঙ্গ' নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
১১.তাঁর মৃত্যুর পর সিংহাসনে বসেন রাজা মানব।কিন্তু ইনি শশাঙ্কের মত পরাক্রমশালী ছিলেন না।ফলত হর্ষবর্ধন এবং কামরূপরাজ(আসাম) ভাস্করবর্মন একে পরাজিত করেন।এরপরই বাংলার সিংহাসনে শূন্যতার সৃষ্টি হয়।শুরু হয় মাৎস্যন্যায়ের কাল(৬৩৭-৭৫০ খ্রিষ্টাব্দ)
💠💠পাল বংশ :--
🔘শশাঙ্কের পতনের পর প্রায় একশ বছরেরও বেশি সময় ধরে যোগ্য রাজার অভাবে বাংলায় অরাজক পরিস্থিতির তৈরি হয়। স্থানীয় জমিদার,জোতদারদের অত্যাচারে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। মৎস্য জগতে বড় মাছ যেমন ছোট মাছকে গিলে খায়, তেমনি বাংলায় এই সময় শক্তিমানেরা দুর্বলদের উপর নিরন্তর অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছিল। দেশের জনসাধারণের দুর্দশার অন্ত ছিল না। ব্যবসাবাণিজ্য বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। রৌপ্যমুদ্রার আদানপ্রদান বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সর্বোপরি বাংলার প্রধান বন্দর তাম্রলিপ্ত ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিল। এমত অবস্থায় ৭৫০ সালে বাংলার 'প্রকৃতিপুঞ্জ' গোপালকে বাংলার সিংহাসনে বসিয়ে নতুন যুগের সূচনা করে।ইনিই পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা।
🔘সন্ধ্যাকর নন্দীর রামচরিত,ঘনারাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল ইত্যাদিতে এদের ক্ষত্রিয় বলা হয়েছে।রামচরিত স্রষ্টার মতে এরা ছিলেন সূর্য বংশীয় রাজপুত।
🔘অন্যদিকে 'মঞ্জুশ্রী মূলকল্প'(তান্ত্রিক বৌদ্ধ শাস্ত্র) অনুসারে এরা ছিলেন শূদ্র।
🔘আইন-ই-আকবরী বলছে,পাল রাজারা জাতিতে 'কায়স্থ'।
🔘রামচরিতে বরেন্দ্রভূমি অর্থাৎ উত্তরবঙ্গকে পাল রাজাদের পিতৃভূমি ("জনকভূ") বলা হয়েছে।
♦প্রতিষ্ঠাতা--গোপাল
♦শ্রেষ্ঠ রাজা--দেবপাল
♦শেষ রাজা--গোবিন্দপাল
♦রাজাদের ধর্ম-- মূলত বৌদ্ধ।
♦রাজধানী--
গৌড়(গোপাল),
সোমপুর(ধর্মপাল),
মুঙ্গের(দেবপাল),
রামাবতী(রামপাল)।
🚩 গোপাল(৭৫০-৭৭০)
:--
১.পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা।
২.ধর্মপালের খালিমপুর তাম্রশাসন থেকে তাঁর সম্পর্কে জানা যায়।
৩.গোপালের বাবার নাম ছিল ব্যাপত ও দাদুর নাম দয়িতবিষ্ণু(খালিমপুর)।
৪.ইনি মগধে ওদন্তপুরী বিহার নির্মাণ করেন।
৫.উপাধি-- পরমসৌগত।
🚩ধর্মপাল(৭৭০-৮১০):--
১.এঁর আমলেই কনৌজের সিংহাসনের দখল নিয়ে প্রতিহার ও রাষ্ট্রকূটদের সাথে 'ত্রি-শক্তি'র লড়াইয়ের সূচনা হয়।
২.প্রতিহার রাজ বৎস্যরাজের সাথে ধর্মপালের যুদ্ধ বাধে।যুদ্ধে ধর্মপাল হেরে যান।কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে রাষ্ট্রকূটরাজ ধ্রুব,কনৌজ আক্রমণ করে বৎস্যরাজকে হারিয়ে দেন।বৎস্যরাজ রাজস্থানে পালিয়ে যান।কিছুদিন পর ধ্রুবও কনৌজের সিংহাসনে নিজের এক ডেপুটিকে নিয়োগ করে নিজ রাজ্যে ফিরে যান।এই সুযোগে ধর্মপাল আবার কনৌজ আক্রমণ করেন।
৩.নারায়ণ পালের 'ভাগলপুর তাম্রশাসন' থেকে জানা যায়, রাষ্ট্রকূট রাজ ধ্রুব ফিরে গেলে ধর্মপাল কনৌজের ডেপুটি গভর্নর ইন্দ্রায়ুধকে পরাজিত করে নিজের এক মহাসামন্ত চক্রায়ুধকে কনৌজের সিংহাসনে বসান।
৪.ইনি সোমপুরে নতুন রাজধানী নির্মাণ করেন।
৫.বিক্রমশীল বিশ্ববিদ্যালয়, সোমপুরি মহাবিহার নির্মাণ করেন।
৬.নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কার করেন।
৭.উপাধি---
বিক্রমশীল,
উত্তরাপথস্বামী,
বঙ্গপতি,
গৌড়েশ্বর।
🚩দেবপাল(৮১০-৮৫০)
:--
১.পাল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা ছিলেন দেবপাল।
২.ইনি মুঙ্গেরে রাজধানী স্থানান্তরণ করেন।
৩.সেনাপ্রধান---জয়পাল।
৪.মন্ত্রী--দর্ভপানি।
৫.বিষ্ণুভদ্রের 'বাদল স্তম্ভলেখ' থেকে জানা যায়, তাঁর রাজ্য হিমালয় থেকে বিন্ধ্য পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
৬.ইনি কম্বোজ আক্রমণ করেন।সেই দেশে ভালো যুদ্ধ ঘোড়া পাওয়া যেত।
৭.বহির্ভারতের সাথে ভালো যোগ ছিল।সুমাত্রার শৈলেন্দ্র রাজা বলপুত্রদেবকে নালন্দায় একটি বিহার নির্মাণের খরচ চালানোর জন্য ৫ টি গ্রাম দান করেন।
৮.দেবপাল রাষ্ট্রকূটরাজ অমোঘবর্ষকে পরাজিত করেন।
৯.আরব পর্যটক সুলেইমান তাঁর সময়ে বাংলায় আসেন।
১০.উপাধি:--
পরমেশ্বর,
মহারাজাধিরাজ।
🔘দেবপালের মৃত্যুর পর যোগ্য উত্তরাধিকারীর অভাবে পাল বংশের পতনের সূচনা হয়।এই সময়ের কয়েকজন দুর্বল রাজা ছিলেন শূরপাল,বিগ্রহপাল,
ন্যায়পাল প্রমুখ।প্রতিহার,রাষ্ট্রকূট ও চান্দেল রাজারা বারংবার আক্রমণ করেন।অবশেষে হরিকলের(এখনকার দক্ষিণ পূর্ব বাংলা) কান্তিদেব,দ্বিতীয় বিগ্রহপালকে সিংহাসনচ্যুত করে 'চন্দ্র বংশ'এর প্রতিষ্ঠা করেন।এদের রাজধানী ছিল--- বিক্রমপুর।
🚩💠প্রথম মহীপালের আমলে আবার পাল বংশের উত্থান ঘটে। ইনি চন্দ্র রাজাদের পরাজিত করেন।
🚩প্রথম মহীপালের সময়েই রাজেন্দ্র চোল বাংলা এবং সুলতান মামুদ ভারত আক্রমণ করেন।
🚩💠দ্বিতীয় মহীপালের আমলে দিব্যকের নেতৃত্বে বাংলায় 'কৈবর্ত বিদ্রোহ' ঘটে।
🚩💠রামপাল কৈবর্ত বিদ্রোহ দমন করেন।
🚩পাল বংশের শেষ শক্তিশালী রাজা ছিলেন-- রামপাল।
🚩রামপাল গঙ্গায় ডুবে আত্মহত্যা করেন।
💠অন্যান্য তথ্য :--
১.পাল যুগেই আদি বাংলার প্রথম লেখ্য নিদর্শন---চর্যাপদ পাওয়া যায়।
২.পাল রাজাদের প্রধান যুদ্ধ হাতিয়ার ছিল---হাতি🐘।
৩.পালরাজারা ছিলেন মহাযান বৌদ্ধ মতের অনুসারী
৪.এই সময়ের দুজন বিখ্যাত ভাস্কর ছিলেন-- ধীমান ও বীতপাল।
৫.নারায়ণ পাল একটি শিব মন্দির নির্মাণ করেন।
৬.এই সময়ে টেরাকোটার বিকাশ ঘটে।
৭.সমগ্র সাম্রাজ্য কয়েকটি প্রদেশ বা 'ভুক্তি'তে বিভক্ত ছিল।
♦সাম্রাজ্য--ভুক্তি--বিশ্য---মন্ডল---গ্রাম।
৮.কয়েক রকম কর---
ভাগ--কৃষিজ শস্যের ওপর।১/৬ অংশ।
ভোগ-- ফুল ও সব্জি।
কর-- ইনকাম ট্যাক্স।
হিরণ্য-- শস্যের বদলে নগদ মুদ্রায় কর দিলে।
৯.উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ---
🔘চক্রপাণি দত্তের 'চিকিৎসা সংগ্রহ','আয়ুর্বেদদীপিকা','ভানুমতি'।
🔘জীমূতবাহনের 'দায়ভাগ'(স্বামীর সম্পত্তিতে বিধবার অধিকার)।
🔘সুরেশ্বরের 'শব্দপ্রদীপ'।
💠সেন বংশ.(১০৭০-১২৩০ খ্রিষ্টাব্দ):--
🔘প্রতিষ্ঠাতা---সামন্ত সেন(চালুক্য রাজাদের সামন্ত)।
🔘প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা--বিজয়সেন।
🔘রাজধানী--
বিজয়পুরী(বিজয়সেন)
নবদ্বীপ(বল্লাল সেন)
লখনৌতি(লক্ষণ সেন)
রাজাদের ধর্ম-- হিন্দু।
🚩বিজয়সেন---
১.সেন বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা।
২.ইনি পালরাজা মদন পালকে পরাজিত করেন।
৩.ব্যারাকপুর তাম্রলেখ থেকে এঁর সম্পর্কে জানা যায়।
৪.সভাকবি---শ্রীহর্ষ।রচনা করেন 'বিজয় প্রশস্তি'।
৫.উপাধি-- অরিরাজ বৃষভশঙ্কর।
🚩বল্লাল সেন--
১.চালুক্য রাজকন্যা রামদেবীকে বিয়ে করেন।
২.শেষ পাল রাজা গোবিন্দ পালকে পরাজিত করেন।
৩.কৌলিন্য প্রথার সূচনা করেন।
৪.নিজে 'দানসাগর' ও 'অদ্ভুতসাগর' নামে দুটি বই লেখেন।
৫.আনন্দভট্ট লেখেন 'বল্লালচরিত'।
৬.উপাধি--'অরিরাজ নিঃশঙ্ক শঙ্কর'।
🚩লক্ষণ সেন----
১.শেষ শক্তিশালী রাজা।
২.মিনহাজ-ই-সিরাজের 'তাবাকত-ই-নাসিরি'তে তাঁর সম্পর্কে লেখা আছে।
৩.গাড়োয়াল রাজ জয়চন্দ্রকে পরাজিত করেন এবং তাকে মগধ থেকে বিতাড়িত করে কাশী ও প্রয়াগে 'বিজয়স্তম্ভ' স্থাপন করেন।
৪.ইনি ছিলেন বৈষ্ণব।
৫.তাঁর সময়ে বকতিয়ার খিলজি বাংলা আক্রমণ(১২০২) ও নালন্দা ধ্বংস করেন।
৬.উপাধি---'গৌড়েশ্বর',
'অরিরাজ মদন শঙ্কর'।
💠🔴বখতিয়ার খলজীর বাংলা আক্রমণের মধ্যে দিয়ে বাংলায় মুসলমান শাসনের পত্তন ঘটে।এরপর
দিল্লি সুলতান শামসুদ্দিন ইলতুতমিস ১২২৫ সালে বাংলাকে দিল্লির একটি প্রদেশ হিসাবে ঘোষণা করেন।
🚩দিল্লি সুলতানরা নিযুক্ত গভর্নরদের মাধ্যমে বাংলায় শাসন করার চেষ্টা করে। কিন্তু দিল্লির সাথে বাংলার দূরত্বের বেশি হওয়ায় যথেষ্ট পরিমাণের সাফল্য পাওয়া যায়নি। উচ্চাভিলাষী গভর্নররা বিদ্রোহ করেছিলেন এবং দিল্লি সুলতান দ্বারা সামরিকভাবে দমন না করা অবধি স্বাধীন শাসক হিসাবে শাসন করতেন।
💠🔘১৩২৫ সালে, দিল্লি সুলতান গিয়াসউদ্দিন তুঘলক প্রদেশটিকে তিনটি প্রশাসনিক অঞ্চলে পুনর্গঠিত করেছিলেন, সোনারগাঁও কেন্দ্রিক পূর্ব বাংলার শাসন, গৌড় উত্তরবঙ্গ
শাসন
করে,এবং সাতগাঁও দক্ষিণবঙ্গ শাসন করে। এমনকি এই ব্যবস্থাও ভেঙে যায়।
🔴♦ বাংলায় শাহী শাসনঃ--
💠শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ,গৌড়ের আলাউদ্দিন আলী শাহকে পরাজিত করেন এবং গৌড়ের নিয়ন্ত্রণ অর্জন করেন। তারপরে তিনি সোনারগাঁয়ের ইখতিয়ারউদ্দিনকে পরাজিত করেন। ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে ইলিয়াস শাহ নিজেকে সুলতান ঘোষণা করেন।
🚩ইলিয়াস শাহ ইন্দো-তুর্কি ইলিয়াস শাহী রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যা বাংলায় পনের দশক ধরে রাজত্ব করেছিল।
🚩ইলিয়াস শাহ পুন্ড্রে(উত্তরবঙ্গ) তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।
🚩তিনি পূর্বের আসাম থেকে পশ্চিমে বারাণসী পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করেন।
🚩ইনি সাফল্যের সাথে নেপাল অভিযান করেন।
🚩১৩৫৩ সালে, ইলিয়াস শাহ শাহী বাংলা-দিল্লির সুলতানি যুদ্ধের সময় একডালা দুর্গ অবরোধে দিল্লি সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলকের কাছে পরাজিত হন।
🚩তাঁর পুত্র এবং উত্তরসূরি সিকান্দার শাহ ১৩৯৫৯ সালে একডালা দুর্গের দ্বিতীয় অবরোধের সময় দিল্লির সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলককে পরাজিত করেন।
🚩ফিরোজ শাহ তুঘলক সিকান্দার শাহকে ৮০,০০০ টাকা মূল্যের একটি সোনার মুকুট উপহার দেন।
🚩আদিনা মসজিদটি সিকান্দার শাহেত রাজত্বকালে নির্মিত হয়।
🚩তৃতীয় সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ পারস্য কবি হাফিজের সাথে চিঠিপত্র ও কবিতা বিনিময় করতেন।
🚩সুলতান গিয়াসউদ্দিন, হাফিজকে সোনারগাঁয়ে বসতি করার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
💠পঞ্চদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে, ইলিয়াস শাহী শাসনকে শক্তিশালী হিন্দু ভূস্বামী রাজা গণেশ চ্যালেঞ্জ জানালেন, যিনি তাঁর পুত্র (ইসলাম গ্রহণকারী) জালালউদ্দিন মুহাম্মদ শাহকে সিংহাসনে বসিয়েছিলেন। জালালউদ্দিনের তুলনামূলকভাবে স্বল্পকালীন তবে তাৎপর্যপূর্ণ রাজত্ব ছিল, এই সময়ে তিনি আরাকান রাজাকে আরাকানের পুনরুদ্ধার অর্জনে সহায়তা করেছিলেন।
চীনের রাষ্ট্রদূত মা হুয়ান তার ভ্রমণ বিবরণীতে লিখেছেন,পান্ডুয়া ছিল কাপড় এবং মদ রফতানির কেন্দ্র। পান্ডুয়ায় কমপক্ষে ছয় প্রকারের সূক্ষ্ম মসলিন এবং চার ধরনের মদ পাওয়া গেছে। পান্ডুয়াতে তুঁত গাছের ছাল থেকে উচ্চমানের কাগজ তৈরি হতো।
🚩বাংলার সুলতান মাহমুদ শাহ ১৪৫০ সালে পান্ডুয়া থেকে রাজধানী গৌড় স্থানান্তরিত করেন।
💠এরপর প্রতিষ্ঠিত হয় হুসেন শাহী বংশ।হাবশি সুলতান শামসউদ্দিন মোজাফফর শাহ নিহত হওয়ার পর আলাউদ্দিন হুসেন শাহ( শাসনকাল ১৪৯৩-১৫১৯) বাংলার সুলতান হন। ইতিপূর্বে তিনি মোজাফফর শাহের উজির ছিলেন। তার শাসনকালকে 'বাংলার স্বর্ণযুগ' বলে অভিহিত করা হয়।
💠আলাউদ্দিন হোসেন শাহঃ---
🚩এই বংশের শ্রেষ্ঠ সুলতান ছিলেন-- আলাউদ্দিন হোসেন শাহ।
🚩হোসেন শাহের মূল নাম ছিল সাইদ হোসেন।
🚩তাঁর আমলে ওয়ালি মুহাম্মদ গৌড়ের ছোট সোনা মসজিদ নির্মাণ করেন।
🚩ইনি গৌড়ে(মালদা) বড় সোনা মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করেন।পরবর্তীকাকে নাসিরুদ্দিন নসরত শাহ এটি শেষ করেন।
🚩১৪৯৪ সালে 'খেরুর মসজিদ' নির্মাণ করেন।
🚩 শেখের দীঘি নামক একটি জলাশয় খনন করেন।
🚩হোসেন শাহের অধীন চট্টগ্রামের গভর্নর পরাগল খানের পৃষ্ঠপোষকতায় কবীন্দ্র পরমেশ্বর তার পান্ডববিজয় রচনা করেন। এটি মহাভারতের একটি বাংলা সংস্করণ।
🚩কবীন্দ্র পরমেশ্বর তার পান্ডববিজয় গ্রন্থে হোসেন শাহকে কলি যুগের কৃষ্ণের অবতার হিসেবে প্রশংসা করেছেন।
🚩বিজয় গুপ্ত তার মনসামঙ্গল এসময় রচনা করেন। তিনি হোসেন শাহকে অর্জুনের সাথে তুলনা করেছেন।
🚩হুসেন শাহী রাজবংশ বহু হিন্দুকে সরকারে নিয়োগ দিয়েছিল এবং একধরনের বহু ধর্মীয় সহানুভুতি প্রচার করেছিল।
🚩গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ (শাসনকাল ১৫৩৩-১৫৩৮) ছিলেন হোসেন শাহি রাজবংশের সর্বশেষ সুলতান।
🔴ঘঘরার যুদ্ধে সুলতান নাসিরউদ্দিন নুসরাত শাহ বাবরের কাছে পরাজিত হওয়ার পর ধীরে ধীরে বাংলা মোগল সাম্রাজ্যের অংশে পরিণত হয়।
No comments:
Post a Comment